মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২nd ফেব্রুয়ারি ২০২০

পটভূমি ও ক্রমবিবর্তন


 

বাংলাদেশ টেলিভিশন বাংলাভাষায় বিশ্বের প্রথম টেলিভিশন। ১৯৬৪ সালের ২৫শে ডিসেম্বর একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। তৎকালীন ডি আই টি ভবনের (বর্তমানে রাজউক কার্যালয়) দুটি কক্ষে মাত্র ৩ ঘন্টা চলতো এর সম্প্রচার কার্যক্রম। ১৯৬৭ সালে তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশন কর্পোরেশন ও ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে (পি.ও নং-১১৫) বাংলাদেশ টেলিভিশন নামে রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলে পরিণত হয়। ১৯৭৫ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি বিটিভি স্থানান্তরিত হয় রামপুরার নিজস্ব টিভি ভবনে। ৬ই মার্চ ১৯৭৫ সাল হতে রামপুরা টিভি ভবনে নতুন আঙ্গিকে শুরু হয় বিটিভির সম্প্রচার কার্যক্রম। ১৯৮০ সালে শুরু হয় বিটিভির রঙিন সম্প্রচার। বর্তমানে অনুষ্ঠান নির্মাণ ও সম্প্রচার কার্যক্রম চলছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্র থেকে। সম্প্রচার সুবিধার জন্য রয়েছে ১৪টি উপকেন্দ্র/রিলে কেন্দ্র। দেশের শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ টেরিস্ট্রিয়াল সম্প্রচার সুবিধার মাধ্যমে বিটিভির অনুষ্ঠান দেখতে পাচ্ছে। বিটিভির অনুষ্ঠান বর্হিবিশ্বে সম্প্রচার শুরু করার লক্ষে ১১ এপ্রিল ২০০৪ সালে বিটিভি ওয়ার্ল্ড নামে বিটিভির আরেকটি নতুন চ্যানেল চালু করা হয়। স্যাটেলাইটে বিটিভি ওয়ার্ল্ড এর অনুষ্ঠানমালা বহির্বিশ্বে সম্প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়া ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর থেকে বিটিভির অনুষ্ঠান টেরিস্ট্রিয়ালের পাশাপাশি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা সম্প্রচার করা হচ্ছে। ২০১৩ সাল থেকে আইপিটিভি, মোবাইল টিভি ও ওয়েবটিভি এর মাধ্যমেও বিটিভির অনুষ্ঠানমালা দেশে ও বিদেশে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শকরা।

১৯৯৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে বাংলাদেশ টেলিভিশনের একটি নতুন পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র স্থাপিত হয়। কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন বর্তমান ও তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন ০১ ঘন্টা ৩০ মিনিট ব্যাপ্তিকালের  অনুষ্ঠান স্থানীয়ভাবে প্রচার করা হতো। গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম কেন্দ্রটিকে পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র হিসেবে ০৬ ঘন্টার অনুষ্ঠান সম্প্রচারের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্ধোধন করেন। পরবর্তীতে  ১৪ এপ্রিল ২০১৮ থেকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সম্প্রচার সময় ০৬ ঘন্টা থেকে বৃদ্ধি করে ০৯ ঘন্টায় উন্নীত করা হয়। ২৬ জানুযারী ২০২০ সাল থেকে সম্প্রচার সময় ১২ ঘন্টায় উন্নীত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে সম্প্রচারিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার কথা মাথায় রেখে বিটিভি জন্মলগ্ন থেকেই দেশের সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ও বিকাশে সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সেই কারণেই বিটিভি প্রচার করছে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনুষ্ঠান। দেশে খাদ্যোৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিটিভির কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠান-মাটি ও মানুষ এর ভূমিকা অনন্য। বয়স্কশিক্ষাসহ প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা, সামাজিক ও নানা উন্নয়নমূলক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিটিভি গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে সারাবিশ্বে। আমরা আশা করি, আগামী দিনে বিটিভি একটি অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম হিসেবে দর্শক চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে।

সোশ্যাল মিডিয়া উইং:

যান্ত্রিক সভ্যতার অভিঘাতে এবং প্রযুক্তির পরম উৎকর্ষে মানুষের জীবনাচরণ প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। দিন দিন মানুষ টেলিভিশন মিডিয়া হতে সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। দর্শকের এই প্রবণতাকে প্রাধান্য দিয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশন ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া উইং খুলেছে। প্রচারিত জনপ্রিয় অনুষ্ঠানগুলো ছাড়াও বাংলাদেশ টেলিভিশনের আর্কাইভ থেকে জনপ্রিয় অনুষ্ঠানগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করা হচ্ছে। ইউটিউবের মাধ্যমে (btv smw1) এবং ফেসবুকের মাধ্যমে (bangladesh television-btv) দেশি-বিদেশি দর্শকগণ বিটিভির সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানসমূহ সোশ্যাল মিডিয়া উইং এ প্রবেশ করে দেখতে পাবেন।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটে সম্প্রচার কার্যক্রম

বিটিভি, বিটিভি ওয়ার্ল্ড, বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র ও সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান ০১ জুলাই ২০১৯ থেকে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বহির্বিশ্বে সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ভারতে বিটিভি ওয়ার্ল্ড সম্প্রচার:

দূরদর্শনের ডিডি ফ্রিডিশ ডিটিএইচ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সমগ্র ভারতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিরবচ্ছিন্ন সম্প্রচারের লক্ষ্যে প্রসার ভারতীর সাথে বিটিভির একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এই ধারাবাহিকতায় গত ০২.০৯.২০১৯ তারিখ হতে সমগ্র ভারতে বিটিভি ওয়ার্ল্ড এর অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু হয়েছে। 

অনুষ্ঠান বিনিময়ঃ

বিটিভি নিয়মিত অন্যান্য সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের সাথে অনুষ্ঠান ও সংবাদ বিনিময় করে থাকে । একটি উন্নয়নশীল ও শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বিটিভি সবসময় অন্য দেশের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বিটিভি। ১৯৮৪ সালে এশিয়া প্যাসিফিক ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন (এবিইউ) প্রতিষ্ঠার সময় থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশন স্যাটেলাইট নিউজ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে যোগ দেয়।

এশিয়া ভিশনঃ

এশিয়া ভিশন (এভিএন) এর সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রতিদিন সদস্য দেশগুলোর সাথে  নিউজ আইটেম বিনিময় করে থাকে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সংবাদ হওয়া বেশ কয়েকটি আইটেম দ্রুত ও সময়মত সদস্য দেশগুলোর সাথে বিনিময় করার কারণে বিটিভি ‍‍‍‍“এভিএন” এর কয়েকটি অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছে।

কার্যাবলি (Functions):

            ১.         সম্প্রচার নীতিমালার উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে সরকার/মন্ত্রণালয়কে সহায়তা প্রদান ;

            ২.         দেশে-বিদেশে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় মন্ত্রীবর্গ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের কার্যক্রম ধারণ ও সম্প্রচার;

            ৩.         দেশ ও বিদেশের সংবাদ ও প্রতিবেদন প্রচার;

            ৪.         বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির উপর ভিত্তি করে তথ্যমূলক অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচার ;

            ৫.         শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি,  নারী ও শিশু অধিকার, দারিদ্র্য বিমোচন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ  উন্নয়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি,

                       কৃষি ও কৃষি অর্থনীতিসহ জীবন ও জীবিকার সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে অনুষ্ঠান/প্রামাণ্যচিত্র  সংবাদ নির্মাণ ও প্রচার ;

            ৬.         ক্রীড়া, শিল্প, সাহিত্য, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচার;

            ৭.         তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে প্রচার সহযোগিতা প্রদান;

            ৮.         মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগের ব্র্যান্ডিং এর বিষয়ে প্রচার;

            ৯.         টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (SDG) অর্জনের পরিপূরক কনটেন্ট নির্মাণ ও সম্প্রচার এবং

            ১০.       দেশি-বিদেশি সম্প্রচার সংস্থা/সংগঠনের সাথে যোগাযোগ, সমন্বয় সাধন এবং ধ্রুপদী ও শিক্ষামূলক বিদেশি অনুষ্ঠান সম্প্রচার।


Share with :

Facebook Facebook